হারিয়ে গেছে খিলাড়ি

MAB Rating:
2

সৌম্য পাকড়াশি
কলকাতা, ১৪ ডিসেম্বর, ২০১২

Movie Review of Khiladi 786

খিলাড়ি ম্যাজিক কোথায় হারাল? ছবি- এরস ইন্টারন্যাশনাল

সালটা ১৯৯০। সময় এবং পরিস্থিতি বলিউড-এর ক্ষেত্রে বিচার করলে যথেষ্ট তাৎপর্য পূর্ণ। নানান নতুন ছবি, নতুন তারকাদের সমাবেশ ঘটছিল তখন বি-টাউনে। শাহরুখ খানের কিং হওয়ার সূচনাকালও সেটাই। তবে সেই সময়ে দাঁড়িয়েও একজন খিলাড়ি কিন্তু ধীর অথচ দৃপ্ত পদক্ষেপ রাখছিলেন বলিউডের মাটিতে। হিন্দি ছবিতে যখন রোম্যান্সের ছড়াছড়ি, তখন একমাত্র তিনিই দর্শককে উপহার দিচ্ছিলেন ফুল এন্টারটেনমেন্ট প্যাকেজ। ঝিন্কু গান থেকে সুরু করে কমেডি, ধুন্ধুমার অ্যাকশন থেকে শুরু করে মন কেমন করা ইমোশন- সব পাওয়া যেত সেই খিলাড়ির ছবিতে। পাশাপাশি, বলিউড তখন মৌলিক ছবির দিকে হেঁটেছে, হিট ছবির সিকুয়্যেল বানানোর ট্রেন্ড তখন কোথায়? কিন্তু সমীক্ষা বলছে, ১৯৯২-২০০০ সাল অব্দি অর্থাৎ মাত্র আট বছরের ব্যবধানে অক্ষয় কুমারের 'খিলাড়ি' ব্র্যান্ডেড ৭টি ছবি মুক্তি পেয়েছে এবং প্রত্যেকটিই দর্শকদের মনে একটা আলাদা স্থান অধিকার করেছে। ফ্যানমহলে রীতিমতো অপেক্ষা থাকত তখন খিলাড়ি সিরিজের ছবির।

তবে ২০০০ সালের পর খিলাড়ি নামটা অক্ষয়ের তকমা হয়ে গেলেও নায়ক আর খিলাড়ি সিরিজের প্রতি উৎসাহ দেখাননি। তবে পুরনো ফর্মুলা ছেড়ে আর কত দিনই বা থাকা যায়? তাই আবার 'খিলাড়ি' ব্র্যান্ডের কাম ব্যাক ঘটল দীর্ঘ ১২ বছর পর। ছবির নাম 'খিলাড়ি ৭৮৬'। ছবির প্রযোজক অক্ষয়পত্নী টুইঙ্কল খন্না, হিমেশ রেশমিয়া এবং সুনীল লুল্লা। ছবির পরিচালক নবাগত আশিস আর মোহন। ছবিতে নেপথ্যে ভাষণে অক্ষয়ের হেরা-ফেরি সঙ্গী পরেশ রাওয়াল। ছবিতে অভিনেতা তালিকাও বেশ জাঁকালো- অক্ষয় কুমার, আসিন, মিঠুন চক্রবর্তী, রাজ বব্বর, মুকেশ ঋষি ও হিমেশ রেশমিয়া। এই স্টারকাস্ট কতটা কাজে লাগল ছবির? সেটা বলার আগে গল্পের খেইটা একটু ধরিয়ে দেওয়া যাক।

ছবির সুরু একজন ওয়েডিং প্ল্যানার এর প্ল্যান করা একটি বিবাহ থেকে। প্ল্যানারের নাম চম্পক লাল (মনোজ জোশী)। কিন্তু তারই সুপুত্র মনসুখ (হিমেশ) বাবার প্ল্যান করা প্রত্যেক বিয়েতেই কিছু না কিছু গোলযোগ বাধায়। অন্যথা হয়নি এবারেও। তবে এবারের গন্ডগোলের পর বাড়িতে আর ঠাঁই হল না মনসুখের। মনের দুঃখে সে পণ করল- একটি বিয়ে সে ঠিকভাবে দিয়েই ছাড়বে। হয়ে উঠবে বাবার মত ওয়েডিং প্ল্যানার। যেই কথা সেই কাজ। ঘটনাচক্রে তার কাঁধে দায়িত্ব পড়ল মুম্বই এর এক নম্বর ডন তাঁতিয়া তুকারাম তেন্ডুলকর ওরফে টি টি টি (মিঠুন)-র বোন ইন্দুর (আসিন) বিয়ে দেওয়ার। কে হতে পারে সুপাত্র?

মনসুখের মনে পড়ে যায় এক পঞ্জাবি বিয়ের কথা, যেখানে তাদের সামনে এক স্মাগলারকে গ্রেপ্তার করেছিল দাবাং পঞ্জাবি পুলিশ অফিসার বাহাত্তর সিং (অক্ষয় কুমার)। ব্যস, আর যায় কোথায়! মনসুখ চলল পঞ্জাব, বাহাত্তরের খোঁজে। এদিকে বাহাত্তরের পরিবারের কিসসা অদ্ভুত। আদতে তারা পুলিশই নয়, পুলিসের হয়ে সবরকম স্মাগলিং-এর দালালি করাই কাজ তাদের পরিবারের। বাহাত্তরের বাবা সত্তর সিং (রাজ বব্বর) এবং কাকা একাত্তর সিং-ও (মুকেশ ঋষি) তাই করে এসেছে এতদিন। এলাকার কোনো বাপ তাদের সঙ্গে নিজের মেয়ের বিয়ে দেয় না। মনের দুঃখে তাদের বিয়ে করতে হয়েছে বিদেশি মেয়েদের। এমতাবস্থায় যখন এক দেশি মেয়ের 'রিশতা' নিয়ে আসে মনসুখ, আহ্লাদে আটখানা হয়ে ওঠে পুরো পরিবার।

ওদিকে পুলিশ পরিবারের কাছে তো আর ডন সেজে থাকা যায় না, তাই বোনের মুখ চেয়ে পুলিশ সাজতে বাধ্য হয়ে রাজি হন মিঠুন নিজেও। দুই পরিবারের পুলিশ না হয়েও পুলিশ সেজে বিয়েকে কেন্দ্র করে নানা মজা করতে করতে এভাবে এগিয়েছে গল্প। ছবির শেষটা খুব একটা অপ্রত্যাশিত নয়। তবে ছোট্ট একটা ট্যুইস্ট রয়েছে, ছবির শেষে ফিরে আসছেন অক্ষয়ের হারিয়ে যাওয়া ভাই তিয়াত্তর সিং। কে সে? উত্তর রয়েছে ছবিতে। পাশাপাশি, অনেকদিন পর ছবিতে একটি ছোট চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা গেল জনি লিভারকে।

কমেডি এবং বিনোদনমূলক অ্যাকশন-এর আঙ্গিক থেকে দেখলে ছবিটিকে ১০-এ ৬ দেওয়াই যায়। তবে অ্যাকশনের বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে বহু দৃশ্যেই। আর খিলারির যে আলাদা একটা মাধুর্য, সেটা এই ছবিতে পাওয়া গেল না। এই ধরনের ছবি তো মুক্তি পাচ্ছে আকছার! খিলাড়ি ম্যাজিক কোথায় হারাল? ১২ বছরের অনভ্যাসের ফল? এগুলো বাদ দিলে অক্ষয় আরও একবার প্রমাণ করলেন যে, তিনি একজন অসাধারণ এন্টারটেনার। মিঠুন ছিলেন তাঁর পরিচিত ফর্মে, নিজস্ব কেতায়। হিমেশের অভিনয়ও প্রশংসনীয়। ছবির সঙ্গীত পরিচালকও ছিলেন হিমেশ নিজে। তবে একদমই হিট হয়নি ছবির গানগুলি।

পরিচালনা : আশিস আর মোহন
প্রযোজনা : টুইঙ্কল খন্না, হিমেশ রেশমিয়া আর সুনীল লুল্লা
কাহিনি : হিমেশ রেশমিয়া
সঙ্গীত : হিমেশ রেশমিয়া
অভিনয় : অক্ষয় কুমার, আসিন থোট্টুমল, মিঠুন চক্রবর্তী, হিমেশ রেশমিয়া, রাজ বব্বর প্রমুখ