রবার জিনিসটা আমার নেহাত মন্দ লাগে না...

আর দিনকয়েকের মধ্যেই আসতে চলেছে পরিচালক ক্রিস নোলান-এর ব্যাটম্যান সিরিজের শেষ ছবি ‘দ্য ডার্ক নাইট অ্যারাইজেস’। সেই ছবিতে কাজ করার অভিজ্ঞতার কথা জানাচ্ছেন খোদ ব্যাটম্যান ওরফে ক্রিশ্চিয়ান বেল। এও জানাচ্ছেন, ট্রিলজি শেষ হয়ে যাওয়ায় তাঁর আদতে কেমন লাগছে!

MAB Rating:
0


কলকাতা, ১৪ জুলাই, ২০১২

Cristian Bale Interview

এবার ছবি শেষ করে দেওয়া যাক। ছবি- এএফপি

প্রশ্ন : আইম্যাক্সে শ্যুট করে কেমন লাগল?
ক্রিশ্চিয়ান বেল : আইম্যাক্সে শ্যুট করার অভিজ্ঞতা আগেই অল্পবিস্তর ছিল; আমরা যখন ‘দ্য প্রেস্টিজ’ বানাচ্ছিলাম, তখনই ক্রিস আইম্যাক্স প্রযুক্তি নিয়ে খুচখাচ পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছিল। তাই আমার কাছে এটা খুব একটা নতুন কিছু ব্যাপার নয়। তবে হ্যাঁ, সাধারণ প্রযুক্তি আর আইম্যাক্সে শ্যুটিং- দুটোর মধ্যে সাধারণ কিছু তফাত তো থাকবেই। এই যেমন, সাধারণ ক্যামেরা, তা সে যত উন্নতই হোক না কেন, তাতে কিছু নয়েজ তো আসবেই। কিন্তু আইম্যাক্স? ওহ্, এটা একদম আলাদা একটা ব্যাপার! পিকচার কোয়ালিটিটাকে আইম্যাক্স পুরোপুরি আলাদা একটা স্তরে নিয়ে যায়। আপনার সঙ্গে তাহলে একটা অভিজ্ঞতা ভাগ করি! ‘দ্য ডার্ক নাইট’-এরও তো কিছুটা আইম্যাক্সে শ্যুট করা হয়েছিল। প্রিমিয়ারের সময়ে দর্শকদের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা দেখে মনে হচ্ছিল, তারা যেন ওই প্রযুক্তিটুকুর জোরে পুরোপুরি ছবির দৃশ্যটাকে বাস্তবের মতো অনুভব করতে পারছে। আইম্যাক্সের মতো ভাল মেশিনারি খুব কমই হয়!

প্রশ্ন : আপনি কি বলতে পারবেন, ছবিটার ঠিক কতটুকু অংশ আইম্যাক্সে শ্যুট করা হয়েছে?
ক্রিশ্চিয়ান বেল : উঁহু, এসব ব্যাপারে আমার কোনও মাথাব্যথা নেই। এই প্রশ্নটা বরং পরিচালককে করাই ভাল হবে; তিনিই এর সঠিক উত্তর দিতে পারবেন।

প্রশ্ন : সে কী? আপনি তো শ্যুটিং করেছেন, তাও জানেন না?
ক্রিশ্চিয়ান বেল : এইসব ব্যাপার নিয়ে আমি একদমই মাথা ঘামাই না। আমার কাজ অভিনয় করা, তাইই করি! আমি পরিচালকের কাজে নাক গলাতে একটুও ভালবাসি না। কোনও দিন আমি অন্যান্য অনেক অভিনেতার মতো পরিচালককে জিগ্যেস করিনি, ‘এটা কি ক্লোজ আপ নিচ্ছেন? এই দৃশ্যটা কি ওয়াইডে নেবেন? আরে, আপনি ভুল করছেন, এটা অমুক অ্যাঙ্গেলে নয়, তমুক অ্যাঙ্গেলে নিন’! (হাসি)
তাই যেদিন আইম্যাক্সে শ্যুট করা হয়, সেদিনও আমার মধ্যে বাড়তি কোনও উত্তেজনা কাজ করে না। সত্যি বলতে কী, আমার আলাদা করে খেয়ালও থাকে না। আমার কাজটা আমায় করতে হবে; ক্যামেরা কেমন, সেটা নিয়ে মাথা ঘামিয়ে কী লাভ?

প্রশ্ন : এই ছবিটা নিয়ে তো যথেষ্ট উত্তেজনা ছড়িয়েছে! তা, আপনার মনে আবার ক্রিস নোলান-এর সঙ্গে কাজ করা নিয়ে কোনও হেজিটেশন ছিল কি?
ক্রিশ্চিয়ান বেল : এক সিরিজের ছবি বলে বলছেন? না, এসবের কোনও জায়গাই নেই, কেননা আমি জানতাম, চুক্তি অনুসারে এই ছবিতেও আমায় অভিনয় করতে হবে। ছবিটা যদি না করতাম, তাহলে আমার নামে মামলা করা হত, সর্বস্ব খুইয়ে আমি পথে নামতাম! (হাসি)
হ্যাঁ, ট্রিলজি সিরিজের তিন নম্বর ছবিটা খুব স্পর্শকাতর হয় ঠিকই, লোকে এক জিনিস দেখতে দেখতে অভ্যস্ত হয়ে যায় যে! তাই খুব ঝুঁকি নিয়েই এরকম ছবি বানাতে হয়। তবে আমরা যে ঠিকঠাকভাবে এগোতে পারব, এই নিয়ে ক্রিসের মনে কোনও সন্দেহ তো ছিলই না; আমারও ছিল না। মানছি এটা বেশ ঝুঁকির ব্যাপার! আসলে আমার মনে হয়, ক্রিস ঝুঁকি নিতে ভালবাসে।

প্রশ্ন : এর পর তো আর ব্যাটম্যান তৈরি হচ্ছে না! নিশ্চয়ই চরিত্রটাকে খুব মিস করবেন?
ক্রিশ্চিয়ান বেল : একদম, একদম, সে আর বলতে!

প্রশ্ন : আর কস্টিউমটা? সেটাকেও কি মিস করবেন?
ক্রিশ্চিয়ান বেল : ওইরকম একটা কস্টিউম পরে শ্যুট করার সময় যত অস্বস্তিই হোক না কেন, যতই গরম লাগুক, যতই আপনি ঘেমে-নেয়ে যান, যত মাথাব্যথা-গায়ে ব্যথা হোক না কেন, যখন আপনি ছবিটা দেখবেন, বলতে বাধ্য হবেন, ‘কী লাগছে গুরু’! কাজে কাজেই আমিও কস্টিউমটাকে খুব মিস করব; আসলে রবার জিনিসটা আর তার কামড়ানি আমার নেহাত মন্দ লাগে না। (হাসি)

প্রশ্ন : আচ্ছা, এবার একটা অন্য প্রসঙ্গে আসি। এই ছবিতে ব্রুস আর সেলেনার সম্পর্কটা ঠিক কেমন বলুন তো? আমরা কয়েকটা স্টিলে ওদের হাত ধরাধরি করে দেখেছি!
ক্রিশ্চিয়ান বেল : তাই? দেখেছেন বুঝি এরকম ছবি? সত্যি দেখেছেন? আসলে কী জানেন তো, সিনেমায় কাজ করার এইটাই মজা— আপনি যেটা বানালেন, ছবি দেখে সেটাকে লোকে অন্যরকম কল্পনা করে নিল! যাই হোক, লোকজন আমাদের ছবি নিয়ে যা যা আলোচনা করছে, তার পুরোটাই স্বাগত। ভাবতেই ভাল লাগে যে লোকে আমাদের কাজ নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছে। এবার যদি ছবি দেখে তারা হতাশ হয়, তাহলে অবশ্য আমার কিছু বলার নেই।

প্রশ্ন : সত্যি করে বলুন তো, এই ছবিতে ব্রুস আর সেলেনার সম্পর্কটা কতটা ঘনিষ্ঠ হল?
ক্রিশ্চিয়ান বেল : হুমম, এটার উত্তর আমাকেও খুঁজতে হবে! আচ্ছা, ইয়ার্কি থাক, এই প্রশ্নটার উত্তর দিতেই পারি! কিন্তু আপাতত আমার এককাঁধে ভর করে আছে ক্রিস; আরেক কাঁধে এমা! আর দুজনেই বলছে, ‘ না, না, মুখ বুজে থাক, এখনই তোমার এইসব প্রশ্নের উত্তর দেওয়া চলবে না’! (হাসি)
উত্তরটা না হয় ছবিটা দেখেই খুঁজে নিন! একটু কৌতূহল থাক না; ক্ষতি কী?

প্রশ্ন : বেশ। তাহলে বলুন, এই ছবিতে আপনার চুলের ছাঁটটা অন্যান্যগুলোর তুলনায় একটু বড় কেন? এটার কি বিশেষ কোনও প্রাসঙ্গিকতা আছে?
ক্রিশ্চিয়ান বেল : তা আছে বইকী! প্রত্যেকটা ছবিতেই দেখবেন, আমার হেয়ার কাট অন্যগুলোর তুলনায় আলাদা! এটা সচেতনভাবে করা হয়েছে, অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে একটা মানুষের বদলাতে থাকা ম্যাচিওরিটিকে ফুটিয়ে তোলার জন্য। তাই চুল যত বড় হবে, চরিত্রটাও তত অন্যরকম হবে। আমি ঠিক উত্তর দিচ্ছি তো? কে জানে, ভুলভাল বকছি কিনা! (হাসি)

প্রশ্ন : এই নিয়ে আপনি ক্রস নোলানের সঙ্গে তিনটে ছবি করলেন! তিন নম্বরটাতেই কাজ শেষ; সেদিক থেকে এই ছবিটায় আপনার কাজ কতটা অন্যরকম হল?
ক্রিশ্চিয়ান বেল : কে জানে, দর্শক ছবিটা দেখে এই ব্যাপারে কী সিদ্ধান্তে আসবে! আমি আগেরগুলোতে যেমন কাজ করেছিলাম, এটাতেও সেরকম কাজই করেছি; বিশেষ কিছু আলাদা ব্যাপার ফুটিয়ে তুলতে হয়নি। আর ক্রিস এমন একজন পরিচালক, যে জানে যে, সে কী করতে চলেছে! তাহলে বলি শুনুন! বেশ কয়েকবার আমি ক্রিসকে অভিনয়ের সময় বলেছি, ‘এই জায়গাটা কি একটু আলাদাভাবে করব? তুমি চাইলে আমি তিন-চার রকমভাবে শট দিয়ে দেখাচ্ছি’। ক্রিস কিন্তু একটুও পাত্তা দেয়নি। ও জানে, ও কী বানাতে চায়।
আর ছবি শেষের কথা বলছেন? হ্যাঁ, ব্যাটম্যান নিয়ে আরও অনেকগুলো ছবিই বানিয়ে যাওয়া যায়; ক্রিস কিন্তু ওর সিদ্ধান্তে অটল। এবারে ও ছবি শেষ করবেই। তাই বয়স বেড়ে যাওয়ার ব্যাপারটা আমার বেশ পছন্দই হয়েছে। একদম সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছে ক্রিস; এবার ছবি শেষ করে দেওয়া যাক!

প্রশ্ন : তাহলে ছবিটা যে শেষ হচ্ছে, তাতে আপনি খুশিই?
ক্রিশ্চিয়ান বেল : আলবাত আমি খুশি!

প্রশ্ন : আচ্ছা, এই তিন নম্বর ছবিটাতেও কি ব্যাটম্যানের যা কিছু কাজকম্ম, তা তার বাপ-মার মৃত্যুর প্রতিশোধের কারণেই? নাকি এবার ব্যাটম্যান অন্য দায়িত্বগুলোর প্রতি সচেতন হয়েছে, যেগুলোর দিকে ও খুব একটা তাকানোর সুযোগ পায়নি?
ক্রিশ্চিয়ান বেল : আমি তো বলব, দুটো ব্যাপারই আছে! আমার মনে হয়, ব্যাটম্যান এখনও একটা বড় বাচ্চা ছাড়া আর কিছুই নয়। গ্রাফিক নভেলগুলোতে যেমন আছে, আমরাও সেই প্যাটার্নটা ধরেই এগিয়েছি। সেগুলো মন দিয়ে পড়ুন, দেখবেন, ব্যাটম্যানকে যা কিছু করতে হয়, তা কেবল দায়িত্বের খাতিরে! আসলে ওর মন পড়ে থাকে অন্য জগতে। সেদিক দিয়ে দেখলে আলফ্রেডের যন্ত্রণাটাও একবার ভেবে দেখুন! ও ছাড়া আর কেই বা ভাল জানে যে ব্যাটম্যান একটা জীবন্মৃত অস্তিত্ব ছাড়া আর কিছুই নয়? এখনও ব্যাটম্যানের বুকের ভিতর বাপ-মা হারানোর জ্বালা রয়েছে। সেটাকে সে কী করে ভুলবে?
আর সত্যি বলতে কী, সেটাকে সে ভুলতেও চায় না। এই যন্ত্রণা, এই প্রতিশোধস্পৃহা তাকে পাথর করে রেখেছে। সাধারণ মানুষের জীবনে যা যা আনন্দ থাকে, সেসব কিছুই তার কাছে নেই। এক ঝলক দেখলে মনে হবে বটে যে, সে বড়লোকের বখাটে ছেলে ছাড়া আর কিছুই নয়; কীসের অভাব তার? কিন্তু কেবল আলফ্রেড জানে, কেমন বিষ হররোজ চুঁইয়ে পড়ছে ওর মনের ভিতরে। একটা মানুষ যেভাবে জীবনকে উপভোগ করে, ব্যাটম্যান তা অনেক দেরিতে শিখেছে। এই আর কী!

প্রশ্ন : তা, আগের ছবি আর এটার মধ্যে টাইম গ্যাপ ঠিক কতটা? আগের ছবির কোনও রেফারেন্স এই ছবিটায় থাকছে কি?
ক্রিশ্চিয়ান বেল : রেফারেন্স তো থাকতে বাধ্য! শুধু ‘ডার্ক নাইট’-ই নয়, ‘ব্যাটম্যান বিগিনস’ ছবির কয়েকটা রেফারেন্সও থাকবে। তবে এই ছবিটায় অনেক কিছুই নতুন আছে। এমন অনেক সত্যের মুখোমুখি হবেন দর্শক যেখানে ব্যাটম্যানের মতো তাঁরাও ভাববেন যে, এবার কী করা উচিৎ?

প্রশ্ন : আর দুটো ছবির মধ্যে সময়ের ব্যবধান কতটা? সেটা তো বললেন না...

ক্রিশ্চিয়ান বেল : প্রায় এক বছর বলতে পারেন। ক্রিস সঠিক সময়টা আমায় জানায়নি; তাহলেও ভাবনা-চিন্তার দুস্তর ব্যবধান তো আছেই। আগের ছবি যেখানে শেষ হয়েছিল, ঠিক তার পরের দিন থেকেই এই ছবি শুরু হচ্ছে না।

প্রশ্ন : এবার বলুন, মারিয়ন কটিলার্ড আর টম হার্ডির সঙ্গে কাজ করে কেমন লাগল?
ক্রিশ্চিয়ান বেল : ফাটাফাটি লাগল! এর আগে আমি ‘পাবলিক এনিমিজ’ ছবিতে মারিয়নের সঙ্গে খুব ছোট একটা চরিত্রে অভিনয় করেছিলাম; তখনই দেখেছিলাম ও কী বিরাট মাপের অভিনেত্রী! এই ছবিতে আনা হ্যাটওয়ে যেমন, মারিয়নও তেমন খুব আলাদাভাবে চোখে পড়ার মতো কাজ করেছে, রীতিমতো চমকে যাবেন ওর অভিনয় দেখলে। আর টমের সঙ্গে আমি মাত্র কয়েক সপ্তাহ হল অভিনয় করছি। এর আগেও নানান ছবিতে টম মনে রাখার মতো কিছু অভিনয় করে গিয়েছে; এই ছবিটাও তার ব্যতিক্রম নয়। ও যেভাবে অভিনয়টাকেও সত্যি করে তোলে, দেখে থ হয়ে যেতে হয়। আমার এই ছবির পুরো কাস্টিংটাই দারুন লেগেছে; সাবার সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতাও একইরকম ভাল।

প্রশ্ন : আপনার আর টমের স্টান্ট সিক্যুয়েন্সগুলো কেমন ছিল?
ক্রিশ্চিয়ান বেল : ওহ্, আমরা কিছু চোখ কপালে তোলার মতো স্টান্ট সিক্যুয়েন্স শ্যুট করেছি বটে! তবে তার ঝক্কিও কিছু কম ছিল না। স্টান্ট মানেই তো কেবল মারামারি নয়; তার মধ্যে দিয়েও ছবিটা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার, গল্পের খেই ধরানোর এবং অবশ্যই প্রাসঙ্গিকতার একটা জায়গা থাকে। তবে যদি আমার কথা বলেন, বলব, আমি তো আর পেশাদার স্টান্টম্যান নই, তাই শ্যুট করার সময় অত কিছু মাথায় ঢুকত না। আমরা শুধু আমাদের কাজটুকু করতাম; ব্যস! ছবির পর্দায় একটা মারপিট শুরু হচ্ছে, চলছে, শেষ হয়ে গেল— এই পুরো ব্যাপারটা খুবই উপভোগ্য লাগে সন্দেহ নেই, কিন্তু কাজটা ঠিক ততটাই কঠিন। তবে তার মধ্যেও মজা একটা তো আছেই।

প্রশ্ন : আচ্ছা, টম বাদে আরও একজন ফাইটারের সঙ্গে আপনার হাতাহাতির কথা আছে না? এব্যপারে আপনি কিছু জানেন? এরকম একটা গুজব ছড়িয়েছে শুনলাম...
ক্রিশ্চিয়ান বেল : হ্যাঁ, আলগাভাবে কথাটা আমারও কানে এসেছে বটে! তবে ফাইনাল কিছু এখনও পর্যন্ত শুনিনি।

(অনুবাদক : অনির্বাণ চৌধুরী)